Showing posts with label ওলামায়ে ছূ. Show all posts
Showing posts with label ওলামায়ে ছূ. Show all posts

Friday, April 14, 2017

সুওয়াল: সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি লিখিত ফতওয়া আমার হস্তগত হয়। সেখানে তারা একটি হাদীছ শরীফ ও মা লা বুদ্দা মিনহু কিতাবের বরাত দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, “ফরয নামাযের দুই সিজদার মধ্যখানে اللهم اغفرلى وارحمنى واجبرنى واهدنى وارزقنى وعافنى وارفعنى এ দোয়াটি সম্পূর্ণটাই পড়া জায়িয। উল্লেখ্য আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে তাদের লিখিত ফতওয়াটির ফটোকপি সুওয়ালের সাথে প্রেরণ করা হলো। এখন আমার সুওয়াল হলো-সত্যিই কি ফরয নামাযের দু’ সিজদার মধ্যখানে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণ পড়া জায়িয? দলীল ভিত্তিক জাওয়াব দিয়ে আমাদের ফরয ইবাদত নামাযকে হিফাযত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

 

জাওয়াব :  

দুই সিজদার মধ্যে উক্ত দোয়াটি পড়া সম্পর্কে সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম যে ফতওয়া দিয়েছে তা মিথ্যা ও ভুয়া দলীলের বরাত দিয়ে ভুল, গোমরাহী ও বিদয়াতী আমলের সূচনা করার ব্যর্থ প্রয়াস বৈ কিছুই নয়। কারণ তাদের বক্তব্যে এটাই ছাবিত হয় যে, উক্ত দোয়াটি ফরয নামাযসহ সমস্ত নামাযে পড়া মুস্তাহাব। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ তাদের উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত উক্ত সম্পূর্ণ দোয়াটি আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক ফরয নামাযে পড়া যাবে না বরং উক্ত সম্পূর্ণ দোয়াটি শুধুমাত্র নফল বা তাহাজ্জুদ নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন এ প্রসঙ্গে মিশকাত শরীফ উনার শরাহ “মিরকাত শরীফ” উনার দ্বিতীয় খণ্ডের ৩২৬ পৃষ্ঠায় পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বর্ণনার পর বলা হয়েছে –
وهو محمول على التطوع عندنا.
অর্থ: “ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা আমাদের মাযহাবে নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”
আবূ দাউদ শরীফ-এর শরাহ “বজলুল মাজহুদের” দ্বিতীয় খণ্ডের ৬৮ পৃষ্ঠায় দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়া পড়া সম্পর্কিত হাদীছ শরীফ খানা বর্ণনা করার পর বলা হয়েছে-
وقال القارى وهو محمول على التطوع عندنا.
অর্থ: “হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক উক্ত দোয়াটি নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”
“ইবনে মাযাহ শরীফ” উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত দোয়াটি তাহাজ্জুদ নামাযে পাঠ করতেন। যেমন “ইবনে মাযাহ শরীফ” উনার ১ম জি: ৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بين السجدتين فى صلوة الليل رب اغفرلى وارحمنى واجبرنى وارزقنى وارفعنى.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাহাজ্জুদ নামাযে দুই সিজদার মাঝে
رب اغفرلى وارحمنى واجبرنى وارزقنى وارفعنى.
এই দোয়াটি পড়তেন।
সর্বজন মান্য, অনুসরণীয় ও নির্ভরযোগ্য হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফিক্বাহর কিতাব “মারাকিউল ফালাহ” কিতাবের ১৭৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –
ومقدار الجلوس عندنا بين السجدتين مقدار تسبيحة وليس فيه ذكر مسنون كما فى السراج وكذا ليس بعد الرفع من الركوع دعاء وما ورد فيهما محمول على التهجد كما فى مجمع الانهر.
অর্থ: “হানাফী মাযহাব মুতাবিক দুই সিজদার মাঝখানে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমাণ বসা (ওয়াজিব)। এবং দুই সিজদার মাঝখানে মাসনুন কোন যিকর (দোয়া) নেই। যেমন “সিরাজে” বর্ণিত আছে। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর কোন দোয়া নেই। আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে তা তাহাজ্জুদ (নফল) নামাযের জন্য প্রযোজ্য। অনুরূপ “মাজমাউল আনহুর” কিতাবে বর্ণিত আছে।
হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফিক্বাহের কিতাব “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডের ২১৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে,
وبين السجدتين اللهم اغفرلى وارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى …….. محمول على النفل اى تهجدا او غيره.
অর্থ : “দুই সিজদার মাঝে-
اللهم اغفرلى وارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى.
এই দোয়াটি পড়া … তাহাজ্জুদ নামায অথবা অন্যান্য নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
“মাজমাউল আনহুর” কিতাবের প্রথম খন্ডের ৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –
وليس بين السجدتين ذكر مسنون عندنا وكذا بعد رفعه وما ورد فيهما من الدعاء فمحمول على التهجد.
অর্থ: “আমাদের হানাফী মাযহাবে দুই সিজদার মাঝে মাসনূন কোন যিকির (দোয়া) নেই। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর কোন দোয়া নেই।” আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে তা তাহাজ্জুদ নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
“মিশকাত শরীফ-উনার” ৮৪ পৃষ্ঠায় বাইনাস সুতুরে উল্লেখ আছে-
وهو محمول على التطوع عندنا.
অর্থ: “দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা আমাদের মাযহাবে নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”
অনুরূপ “ইলাউস সুনান” কিতাবের তৃতীয় খণ্ডের ৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে –
ولو تركه رأسا لايلام عليه فان هذا الذكر ورد فى صلاة الليل دون المكتوبة كما يظهر من مجمع الاحاديث ولذا قال الشرنبلالى فى نور الايضاح وليس فيه اى فى الجلوس بين السجدتين ذكر مسنون والوارد فيه محمول على التهجد.
অর্থ: “যদি উক্ত দোয়াটি একেবারেই না পড়ে, তাহলে সে তিরস্কৃত হবে না। নিশ্চয়ই এ দোয়াটি তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য বর্ণিত হয়েছে, ফরয নামাযের জন্য নয়। যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সমষ্টিগত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট। এ জন্য আল্লামা শরাম্বলালী রহমতুল্লাহি আলাইহি “নূরুল ইযাহ” কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুই সিজদার মাঝের বৈঠকে কোন মাসনূন দোয়া নেই। আর এ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলি তাহাজ্জুদ নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”
“গায়াতুল আওতার” কিতাবের ১ম খণ্ডের ২৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –
اور دونوں سجدوں کے درمیاں کوئی ذکر مسنون نھیں اور اسیطرح رکوع سے سر اٹھا نے کے بعد کوئی دعا مسنون نھیں … اور جو ذکر یا دعائیں کہ اں مواضع میں وارد ھیں وہ نفل پر محمول ھیں.
অর্থ: “দুই সিজদার মাঝখানে মাসনূন কোন যিকর (দোয়া) নেই। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর মাসনূন কোন দোয়া নেই। ………. আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে তা নফল নামাযের জন্য প্রযোজ্য।”
“দুররুল মুখতার শরহে তানবীরিল আবছার” কিতাবে উল্লেখ আছে,
وليس بينهما ذكر مسنون وكذا ليس بعد رفعه من الركوع دعاء ………. وما ورد محمول على النفل اى تهجدا او غيره.
অর্থ: দুই সিজদার মাঝে মাসনূন কোন যিকর (দোয়া) নেই। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর কোন দোয়া নেই। …….. আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি বর্ণিত হয়েছে, তা নফল নামাযের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ দুই সিজদার মাঝে বর্ণিত দোয়াগুলি তাহাজ্জুদ নামায অথবা অন্যান্য নফল নামাযে পড়া যাবে।
“মালাবুদ্দা মিনহু” কিতাবের ৪৮ পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-
قوله وبخواند اللهم الخ در در مختار گوید وليس بينهما ذكر مسنون على الـمذهب وما ورد محمول على النفل يعنى در جلسه ذكر مسنون موافق مذاهب نیست وانچہ وارد شده محمول بر نفل ست.
অর্থ: দুই সিজদার মাঝখানে
اللهم اغفرلى وارحمنى واهدنى وارزقنى وارفعنى
এই দোয়াগুলো পড়ার ব্যাপারে দুররুল মুখতার কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হানাফী মাযহাবে দুই সিজদার মাঝখানে মাসনুন যিকির দোয়া) নেই। আর পবিত্র হাদীছ শরীফে যে সকল দোয়াগুলো বর্ণিত হয়েছে তা নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
হ্যাঁ, শাফিয়ী, হাম্বলী ও অন্যান্য মাযহাবে ফরয, নফল উভয় নামাযেই উক্ত দোয়াটি পাঠ করা জায়িয। যেমন, “তিরমিযী শরীফ” উনার ১ম খণ্ডের ৩৮ পৃষ্ঠায় উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই দোয়াটি শাফিয়ী, হাম্বলী ইত্যাদি মাযহাবে ফরয নামাযেও পাঠ করা জায়িয রয়েছে। যেমন-
وبه يقول الشافعى واحمد واسحق يرون هذا جائزا فى الـمكتوبة والتطوع.
অর্থ: “ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ও ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, “ইহা (অর্থাৎ উক্ত দোয়াটি) ফরয ও নফল নামাযের দুই সিজদার মাঝে পড়া জায়িয রয়েছে।” অনুরূপ তিরমীযী শরীফ উনার শরাহ “আরিদাতুল আহওয়াজী” কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডের ৮১ পৃষ্ঠায়ও উল্লেখ আছে।
মোটকথা হলো- শাফিয়ী, হাম্বলী ও অন্যান্য মাযহাবে ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া জায়িয রয়েছে। আর আমাদের হানাফী মাযহাবের ফতওয়া মুতাবিক ফরয নামাযে দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পাঠ করলে ফরয বা রোকন আদায়ে তা’খীর বা বিলম্ব হওয়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। সুতরাং আমাদের মাযহাবে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণটা পড়া যাবে না।
এ প্রসঙ্গে “ফতওয়ায়ে শামীর” দ্বিতীয় খণ্ডের ২১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –
لو اطال هذه الجلسة او قومة الركوع اكثر من تسبيحة بقدر تسبيحة ساهيا يلزمه سجود السهو.
অর্থ: “যদি দুই সিজদার মাঝে এবং রুকু থেকে দাঁড়ানোর পর এক তাসবীহ পরিমাণের চেয়ে বেশি বিলম্ব করে তাহলে ওয়াজিব তরক হবে এবং এতে সাহু সিজদা আবশ্যক হবে।
অতএব, উক্তরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হলো যে, উক্ত দোয়াটি ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝে পড়া যাবে না বরং শুধুমাত্র নফল ও তাহাজ্জুদ নামাযের দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া যাবে। সুতরাং আবুল কালাম যাকারিয়া ও কুতুবুল আলম জিহালতপূর্ণ ও প্রতারণামূলক ফতওয়া প্রদান করে মুফতী খেতাবের পরিবর্তে মুফতে খিতাবের হাক্বীক্বী মিছদাক হয়েছে। তবে তাদের জন্য এ ভুল মাসয়ালার সংশোধনী দিয়ে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় প্রদত্ত ভুল মাসয়ালা আমলকারীর সমূদয় গুণাহর বোঝা তাদের কাঁধেই বর্তাবে।

{দলীলসমূহ: (১) তিরমীযী শরীফ, (২) আবূ দাউদ শরীফ, (৩) ইবনে মাযাহ শরীফ, (৪) নাসাঈ শরীফ, (৫) মিশকাত শরীফ, (৬) মিরকাত শরীফ, (৭) ই’লাউস সুনান, (৮) বজলুল মজহুদ, (৯) মসনদে আহমদ, (১০) মুসতাদরিকে হাকিম, (১১) বায়হাকী শরীফ, (১২) আরিদাতুল আহওয়াজী, (১৩) তানবীরুল আবছার, (১৪) আলমগীরী, (১৫) হিন্দিয়া, (১৬) শামী, (১৭) দুররুল মুখতার, (১৮) রদ্দুল মুহতার, (১৯) গায়াতুল আওতার, (২০) হাশিয়ায়ে তাহতাবী, (২১) খানিয়া, (২২) মুহীত, (২৩) শরহে মুনিয়া, (২৪) খাযায়িন, (২৫) নাহরুল ফায়িক, (২৬) জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ, (২৭) সিরাজুল ওয়াহহাজ, (২৮) মারাকিউল ফালাহ, (২৯) মাজমাউল আনহুর, (৩০) নুরুল ইজাহ, (৩১) বাহারে শরীয়ত, মালা বুদ্দা মিনহু ইত্যাদি।}

সুওয়ালঃ আমরা কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করছি যে, দেশের নামধারী শীর্ষস্থানীয় মালানা, মুফতে, মুফাস্সিরে কুরআন, শাইখুল হদছ, খতীবদলের আমীর প্রকাশ্যে বেগানা বেপর্দা মহিলাদের সাথে পাশাপাশি বসে সভা-সমিতি করছে।তাদেরকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তারা বলে, “ইসলাম কায়েমের স্বার্থে নাকি বেপর্দা হওয়া ও ছবি তোলা জায়িয।”তাদের একথা কতটুকু সঠিক?

 

জাওয়াবঃ

উল্লিখিত তথাকথিত শীর্ষস্থানীয় মৌলভীরা হক্কানী আলিম নয় বরং এরা হচ্ছে উলামায়ে ‘ছূ’তথা দুনিয়াদার , ধর্মব্যবসায়ী, দুনিয়ালোভী নিকৃষ্ট মৌলভী। যারা দুনিয়াবী ফায়দা হাছিলের জন্য অহরহ প্রকাশ্যে ছবি তোলে ও বেপর্দা হয়।অনরূপ আরো বহু হারাম-নাজায়িয বা শরীয়ত বিরোধী কাজে তারা লিপ্ত হয় এবং অহরহ অসংখ্য কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী তথা শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকে।তাদের অসংখ্য কুরআন-সুন্নাহ তথা শরীয়ত বিরোধী বক্তব্যের মধ্যে একটি হলো, “ইসলাম ক্বায়েমের স্বার্থে বেপর্দা হওয়া, ছবি তোলা জায়িয।“ নাউজুবিল্লাহ!

মূলতঃ তাদের এবক্তব্য কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।কেননা, কালামুল্লাহ শরীফের সূরা নিসা, সূরা নূর, সূরা আহযাব সহ অনেক সূরার আয়াত শরীফের দ্বারা এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফের দ্বারা বেপর্দা হওয়াকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
অনুরূপ সূরা বাক্বারাহ, সূরা তওবাহ, সূরা আহযাব, সূরা নজম, সূরা হাশরসহ অনেক সূরার আয়াত সমূহের দ্বারা এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফের দ্বারা ছবি তোলাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আর বুখারী শরীফের হাদীছ শরীফে ঘোষণা করে দেয়া হয়েছে যে,
الحلال بين والحرام بين.
অর্থঃ- “হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট।”
সুতরাং নতুন করে কোন হারাম হালাল হবেনা এবং কোন হালাল ও হারাম হবেনা। অতএব, যদি কোন ব্যক্তি সেটা করে অর্থাৎ কোন হারাম বিষয়কে হালাল বা জায়িয করে অথবা কোন হালাল বিষয়কে হারাম করে তাহলে সে ইসলাম ও মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদে পরিণত হবে।কারণ আক্বাঈদের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,
استحلال المعصية كفر.
অর্খাৎ- “কোন নাফরমানী মূলক বিষয় তথা হারাম বিষয়কে হালাল বা জায়িয সাব্যস্ত করা কুফরী।“(শরহে আক্বাঈদে নছফী)
মূলত: দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতী, মাওলানা, খতীব, শাইখুল হাদীছ, মুফাস্সিরে কুরআন, দলের আমীর নাম দিয়ে যারা শরীয়তে সাব্যস্তকৃত হারাম বিষয়কে দ্বীন কায়িমের দোহাই দিয়ে জায়িয বলতে চায় তারা হচ্ছে ঐ সমস্ত লোক যাদেরকে হাদীছ শরীফে উলামায়ে ‘ছূ’, দাজ্জালে কায্যাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের থেকে দূরে সরে নিজেদের ঈমান-আমল হিফাযত করতে বলা হয়েছে।
কারণ, তারা সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার কারণে কুরআন শরীফে তাদেরকে কুকুর ও গাধার সাথে তুলনা করা হয়েছে।কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
والذى خبث لايخرج الا نكدا.
অর্থঃ- “যা হারাম তা দ্বারা নাপাকী ব্যতীত কিছু পয়দা হয়না।” (সূরা আ'রাফ-৫৮)
কালামুল্লাহ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে
من لم يحكم بما انزل الله فاولئك م الكا فرون.
অর্থঃ- “আল্লাহ পাক যা নাযিল করেছেন সে মুতাবিক যারা আদেশ-নির্দেশ করেনা তারা কাফির।” (সূরা মায়িদা- ৪৪)
من لم يحكم بما انزل الله فاولئكهم الظلمون.
অর্থঃ- “আল্লাহ পাক যা নাযিল করেছেন সে মুতাবিক যারা আদেশ-নির্দেশ করেনা তারা যলিম।” (সূরা মায়িদা- ৪৫)
من لم يحكم بما انزل الله فاولئكهم الفا سقون.
অর্থঃ- “আল্লাহ পাক যা নাযিল করেছেন সে মুতাবিক যারা আদেশ-নির্দেশ করেনা তারা ফাসিক”(সূরা মায়িদা- ৪৭)

পর্দা শুধু মহিলার জন্য নয়, পুরুষের জন্য ও করতে হবে ও ইসলাম কায়িম করার জন্য বেপর্দা হওয়া নাজায়িজঃ 

অনেকে বলে থাকে যে, ‘পর্দা তো ফরয কেবল মহিলাদের জন্য। আল্লাহপাক কুরআন শরীফের সূরা নিসায় মহিলাদের পর্দার কথা বলেছেন, পুরুষদের নয়।‘ নাউজুবিল্লাহ!
তাদের উক্ত কথা মোটেও শরীয়তসম্মত নয়।কারণ, শুধু সূরা নিসার মধ্যেই পর্দার সব আহকাম বর্ণনা করা হয়নি।আরো সূরা রয়েছে।তার মধ্যে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই পর্দার হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে।যেমন, সূরা নূরের ৩০নং আয়াত শরীফের মধ্যে সরাসরি পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,
قل للمؤمنين يغضوا من ابصارهم ويحفظوا فروجهم ذلك ازكى لهم ان الله خبير بما يصنعون.
অর্থঃ- “হেহাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মুমিন পুরুষদের কে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরুকে হিফাজত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই আল্লাহপাক জানেন, তারা যা করে।”
আর সূরা আহযাবের ৫৩নং আয়াতশরীফে পুরুষদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,
واذا سأ لتموهن متا عا فاسلوهن من ورا ء حجاب ذلكم اطهر لقلوبكم وقلوبهن
অর্থঃ- “যখন তোমরা মহিলাদের কাছে কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে।এটা তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রতার কারণ।”
আর হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে- আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
يا على لاتتبع النظرة النظرة فان لك الاولى وليست لك الاخرة.
অর্থঃ- “হে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! দৃষ্টিকে অনুসরণ করোনা।প্রথম দৃষ্টি (যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয়) ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টিকে ক্ষমা করা হবেনা।” (মিশকাত)
হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়েছে,
لعن الله النا ظر والمنظور اليه.
অর্থঃ- “যে মহিলাকে দেখে, আর যে মহিলা নিজেকে প্রদর্শন করে, উভয়ের প্রতি আল্লাহ্পাক উনার লানত।“ (মিশকাত শরীফ)
অর্থাৎ বেগানা মহিলাদের প্রতি প্রত্যেকদৃষ্টিতে এক একটি করে কবীরা গুণাহ লেখা হবে।যতবার, যতসময় দৃষ্টি করবে, ততবার, ততসময় অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে-সেকেন্ডে, প্রতি মিনিটে-মিনিটে কবীরা গুণাহ লেখা হতেই থাকবে।
মূলতঃ পর্দার খিলাফকারী হচ্ছে সর্বোচ্চ কবীরা গুণাহে গুণাহ্গার।অতএব, যারা বলে, “পর্দা তো ফরয কেবল মহিলাদের জন্য। আল্লাহপাক কুরআন শরীফের সূরা নিসায় মহিলাদের পর্দার কথা বলেছেন, পুরুষদের নয়”- তাদের এ কথাসম্পূর্ণরূপে কুরআন-সুন্নাহ্র খিলাফ ও কুফরীর শামিল। যারা কুফরী করে তারা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে মুরতাদ হয়ে যায়।

ছবি-ভিডিও হারামঃ 

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كل مصور فى النار.
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক ছবি তুলনে ওয়ালা জাহান্নামী।” নাঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)
عن ابى معاوية رضى الله تعالى عنه ان من اشد اهل النار يوم القيمة عذابا المصورون.
অর্থ: হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আজাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।” (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০১)
عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اشد الناس عذابا عند الله المصورون.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে। (মিশকাত শরীফ- ৩৮৫)
 عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান কর।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ২০১)
قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.
অর্থ: হযরত আ’মাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত মুসলিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনহু উনার নিকট শুনেছি, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول قال الله تعالى ومن اظلم ممن ذهب يخلق كخلقى فليخلقوا ذرة اوليخلقوا حبة او شعيرة
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, “মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি অধিক অত্যাচারী, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছুরত তৈরী করে। তাদেরকে বলা হবে- তাহলে তোমরা একটি পিপিলিকা অথবা একটি শস্য অথবা একটি গম তৈরী করে দাও।” (মিশকাত শরীফ পৃঃ ৩৮৫)
 عن سعيد قال جاء رجل الى ابن عباس فقال انى رجل اصور هذه الصور فافتنى فيها فقال له ادن منى فدنا منه ثم قال ادن منى فدنا حتى وضع يده على راسه وقال انبئك بما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم وسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كل مصور فى النار يجعل له بكل صورة صورها نفسا فيعذبه فى جهنم وقال ان كنت لا بد فا علا فاصنع الشجر وما لا نفس له.
অর্থ: হযরত সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট এসে বলল, আমি এমন এক ব্যক্তি যে প্রাণীর ছবি অংকন করি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমাকে ফতওয়া দিন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে বললেন, তুমি আমার নিকটবর্তী হও। সে ব্যক্তি উনার নিকটবর্তী হল। পুণরায় বললেন, তুমি আরো নিকটবর্তী হও। সে আরো নিকটবর্তী হলে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি তোমাকে তা বলব। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তৈরীকারীই জাহান্নামে যাবে। এবং মহান আল্লাহ্ পাক তিনি প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেই ছবি গুলো তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।” এবং ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয় তবে, গাছ-পালা বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁক। (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২)
عن عائشة عليها السلام حدثته ان النبى صلى الله عليه وسلم لم يكن يترك فى بيته شيئا فيه تصاليب الا نقضه.
অর্থ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রাণীর ছবি বা ছবিযুক্ত সকল জিনিস (থাকলে) ধ্বংস করে ফেলতেন। (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ৮৮০, মিশকাত পৃঃ ৩৮৫)
অতএব, “হারাম কাজ করে ইসলাম কায়িমের কথা বলা”- এটা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহর খিলাফ কথা এবং মিথ্যা ধোকা ও প্রতারণার শামীল। এথেকে সকলকে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে